কুরআন তেলোয়াত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদীস

কুরআন তেলোয়াত সম্পর্কে হাদীস। সংগৃহীত ছবি: Vecteezy

কুরআন তেলোয়াত মুসলিম জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি শুধু একটি ধর্মীয় কাজ নয়, বরং আধ্যাত্মিক শান্তি, সুসমাচার এবং নৈতিক উন্নতির উপায়। কুরআন তেলোয়াত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদীস রয়েছে, যা আমাদের এ বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। চলুন, কিছু হাদীসের মাধ্যমে জানি কুরআন তেলোয়াতের প্রকৃত গুরুত্ব।

হাদীস ০১ঃ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল রমযানে তিনি আরো অধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরীল (আঃ) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। আর রমাযানের প্রতি রাতেই জিবরীল (আঃ) তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তাঁরা একে অপরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রহমতের বায়ু অপেক্ষাও অধিক দানশীল ছিলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬)

হাদীস ০২ঃ

আমর ইবনু মুররা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন পাঠ কর। আমি বললাম, আমি আপনার কাছে পাঠ করব? অথচ আপনার কাছেই তা অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেন, অন্যের মুখ থেকে শুনতে আমি পছন্দ করি। এরপর আমি তাঁর নিকট সূরাহ ’নিসা’ পাঠ করলাম, যখন আমি فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍم بِشَهِيْدٍ وَّجِئْنَا بِكَ عَلٰى هٰٓؤُلَآءِ شَهِيْدً পর্যন্ত পাঠ করলাম, তিনি বললেন, থাম, থাম, তখন তাঁর দু’চোখ হতে টপ টপ করে অশ্রু ঝরছিল। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫৮২)

হাদীস ০৩ঃ

নাফি ইবনু আবদুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উসা্ন নামক স্থানে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। উমার তাকে মক্কার গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, গ্রামবাসী বেদুঈনদের জন্য তুমি কাকে প্রশাসক নিয়োগ করেছ? তিনি বলেন, আমি ইবনু আবযা (রাঃ) কে তাদের প্রশাসক নিয়োগ করেছি। উমার (রাঃ) বলেন, ইবনু আবযা কে? তিনি বলেন, সে আমাদের একজন মুক্তদাস। উমার (রাঃ) বলেন, তুমি একজন মুক্তদাসকে কেন জনগণের প্রশাসক নিয়োগ করলে? তিনি বলেন, সে তো মহান আল্লাহ্‌র কিতাবের বিশেষজ্ঞ আলিম, ফারায়িয সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং উত্তম ফয়সালাকারী। উমার (রাঃ) বলেন, শোন! তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৮)


হাদীস ০৪ঃ

আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন, তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে। (সহীহ মুসলিম: হাদীস: ১৪১০)

হাদীস ০৫ঃ

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) .. উক্‌বাহ ইবনু আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। তখন আমরা সুফফাহ বা মসজিদের চত্বরে অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ চাও যে, প্রতিদিন "বুত্বহান" বা আকীকের বাজারে যাবে এবং সেখানে থেকে কোন পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই বড় কুঁজ বা চুঁটবিশিষ্ট দু’টি উটনী নিয়ে আসবে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এরূপ চাই। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তোমরা কেউ মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাবের দু’টি আয়াত শিক্ষা দিবে না কিংবা পাঠ করবে না? এটা তার জন্য ঐরুপ দু’টি উটনীর চেয়েও উত্তম। এরূপ তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। আর অনুরূপ সমসংখ্যক উটনীর চেয়ে তত সংখ্যক আয়াত উত্তম। (সহীহ মুসলিম: হাদীস: ১৭৫৮)

উপসংহার

কুরআন তেলোয়াত শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কাজ নয়, এটি আমাদের জীবনের এক অমূল্য রত্ন। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস, মনোবল, শান্তি এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি করে। তাই, প্রতিদিন কুরআন তেলোয়াত করা আমাদের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনবে এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে সাহায্য করবে।

আপনি কেমন ভাবে কুরআন তেলোয়াতকে আপনার জীবনে অন্তর্ভুক্ত করছেন? মন্তব্যে শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ