কুরআন তিলাওয়াতের আশ্চর্য ফযীলত যা আপনার জানা দরকার

কুরআন তিলাওয়াতের আশ্চর্য ফযীলত যা আপনার জানা দরকার। সংগৃহীত ছবি: আনস্প্লেস

কুরআন শরীফ, আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় একটি নেয়ামত। এটি শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ নয়; বরং মানবজীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে পারি এবং আমাদের জীবনকে শান্তি ও সাফল্যের পথে পরিচালিত করতে পারি।

নবীজী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতেন। হাদীস ও সীরাতের কিতাবে এর বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়। নামাযে, নামাযের বাইরে, রাতের আঁধারে, দিনের আলোতে সর্বাবস্থায় তিনি তিলাওয়াত করতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. বলেন, নামাযে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নবীজী এত দীর্ঘ সময় তিলাওয়াত করতেন যে, তাঁর পা মুবারক ফুলে যেত। (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮১৯, ২৮২০)

রমযান মাসে হযরত জিবরীল আ.-কে নবীজী পূর্ণ কুরআন শোনাতেন এবং জিবরীল আ. থেকেও পূর্ণ কুরআন শুনতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬)

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নিজে তিলাওয়াত করতেন তেমনি সাহাবীদের থেকেও তিলাওয়াত শুনতেন। একবার নবীজী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে বললেন, তুমি আমাকে একটু তিলাওয়াত করে শোনাও তো। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে তিলাওয়াত শোনাব, আপনার উপরই তো কুরআন নাযিল হয়েছে! নবীজী বললেন, আমার মনে চাচ্ছে, কারো থেকে একটু তিলাওয়াত শুনি! এ শুনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. সূরা নিসা তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন। পড়তে পড়তে যখন এ আয়াত পর্যন্ত আসলেন-

فَكَیْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ اُمَّةٍۭ بِشَهِیْدٍ وَّ جِئْنَا بِكَ عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ شَهِیْدًا.

[সুতরাং (তারা ভেবে দেখুক) সেই দিন (তাদের অবস্থা) কেমন হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং (হে নবী), আমি তোমাকে ওইসব লোকের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব? -সূরা নিসা (০৪) : ৪১]

এতটুকু তিলাওয়াত করার পর নবীজী বললেন, ঠিক আছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, নবীজী থামতে বলার পর আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখি, তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০৫৫, ৪৫৮২, ৫০৪৯)

আল্লাহ তায়ালা কোরআন তিলাওয়াতকারীদের যথাযথ প্রতিদান প্রদান করবেন

যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামায কায়েম করে, এবং আমি যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারা এমন ব্যবসা আশা কর, যাতে কখনও লোকসান হবে না। পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশী দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। (সূরা ফাত্বির, আয়াত: ২৯-৩০)

আল্লাহ তায়ালা তেলাওয়াতকারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন

নাফি ইবনু আবদুল হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উসা্ন নামক স্থানে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। উমার তাকে মক্কার গভর্নর নিয়োগ করেছিলেন। উমার (রাঃ) বলেন, গ্রামবাসী বেদুঈনদের জন্য তুমি কাকে প্রশাসক নিয়োগ করেছ? তিনি বলেন, আমি ইবনু আবযা (রাঃ) কে তাদের প্রশাসক নিয়োগ করেছি। উমার (রাঃ) বলেন, ইবনু আবযা কে? তিনি বলেন, সে আমাদের একজন মুক্তদাস। উমার (রাঃ) বলেন, তুমি একজন মুক্তদাসকে কেন জনগণের প্রশাসক নিয়োগ করলে? তিনি বলেন, সে তো মহান আল্লাহ্‌র কিতাবের বিশেষজ্ঞ আলিম, ফারায়িয সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং উত্তম ফয়সালাকারী। উমার (রাঃ) বলেন, শোন! তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা এই কিতাবের দ্বারা কতক লোককে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং কতককে অবনমিত করেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২১৮)

হৃদয় প্রশান্ত হয়

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।" (সূরা রা'দ, আয়াত: ২৮)

কুরআন তিলাওয়াত মানুষের মনের ব্যথা ও অস্থিরতা দূর করে। এটি একটি আত্মিক প্রশান্তি দেয়, যা দুনিয়ার অন্য কোনো কিছুতেই পাওয়া সম্ভব নয়।

উপসংহার

কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত সীমাহীন। এটি একটি পূণ্য কাজ, যা দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বরকত নিয়ে আসে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কুরআন তিলাওয়াত করার এবং এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গঠন করার তাওফিক দান করুন।

আপনার প্রতিদিনের জীবনে কুরআন তিলাওয়াত যুক্ত করার জন্য আজই উদ্যোগ নিন!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ