সংগৃহীত ছবিঃ সোর্স
নবী-রাসুলরা আল্লাহর মনোনীত ও প্রেরিত পুরুষ। পৃথিবীর বুকে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিষ্ঠা ও তাঁর দ্বিন প্রচারের জন্য আল্লাহ তাঁদের নির্বাচিত করেছেন। পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের ভেতর ২৫ জনের নাম পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে। এর মধ্যে ১৮ জনের নাম সুরা আনআমের ৮৩ থেকে ৮৬ নম্বর আয়াতে একত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং বাকিদের নাম অন্যত্র এসেছে। মুসলিমরা নাম জানা ও অজানা সব নবী ও রাসুলকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। প্রথম মানুষ আদম (আ.)-এর মাধ্যমে পৃথিবীতে নবী আগমনের ধারাক্রম শুরু হয় এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে তা শেষ হয়।
হযরত ইসা (আঃ) আবার পৃথিবীতে আসবেন একথা বাইবেলে বলা আছে। কুরআনের বেশ কিছু আয়াতে এই কথা বলা হয়েছে। যেমন সুরা মায়েদাহ ১১৬ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
যখন আল্লাহ বললেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম! তুমি কি লোকদেরকে বলে দিয়েছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাতাকে উপাস্য সাব্যস্ত কর? ঈসা বলবেন; আপনি পবিত্র! আমার জন্যে শোভা পায় না যে, আমি এমন কথা বলি, যা বলার কোন অধিকার আমার নেই। যদি আমি বলে থাকি, তবে আপনি অবশ্যই পরিজ্ঞাত; আপনি তো আমার মনের কথা ও জানেন এবং আমি জানি না যা আপনার মনে আছে। নিশ্চয় আপনিই অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত। (সুরা মায়েদাহ - ১১৬)
আর সব মিলিয়ে ১৭০টি হাদিস আছে যেখানে বলা আছে হযরত ইসা (আঃ) আবার পৃথিবীতে আসবেন। কিন্তু যে কারনে তিনি আবার পৃথিবীতে আসবে সেটা হলঃ
খৃস্টান ধর্মের যীসু খৃস্ট তিনি পৃথিবীর একমাত্র প্রেরিত দূত যাকে তার অনুসারীরা ভুল করে ঈশ্বর বলে মানে। আর কোন নবী নেই যাকে তার অনুসারীরা ভুল করে ঈশ্বর বলে ভুল করেছে। কিন্তু খৃস্টানরা তাদের বেশির ভাগই তারা ভুল করে মনে করে যে যীসু খৃস্ট নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেছেন। আর এ কারনেই আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা তাকে আবার জীবিত করবেন। যা সুরা মায়েদাহ এ আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা উল্লেখ করেছেন। তাই দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে এসে যীসু সাক্ষ্য দিবেন, আমি আমাকে উপাসনা করতে বলিনি, তোমাদের বলেছি এক ঈশ্বরের উপাসনা করতে। তাহলে যীসু নতুন কোন আইন আনবেন না, তিনি আসবেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হিসেবে। তিনিও কুরআন ও হাদীসের আইন মেনে চলবেন। তিনি নতুন কিছু শেখাবেন না বা নতুন কোন ধর্ম নিয়ে আসবেন না। তিনি পৃথিবীতে এসে সাক্ষ্য দিবেন খৃস্টানদের সামনে, আমি নিজেকে ঈশ্বর দাবী করিনি সুতরাং তোমরা কুরআন ও হাদীস মেনে চল।
দ্বিতীয়বার হযরত ইসা (আঃ) কোন নতুন নির্দেশ আনবেন না। রাসুল মানে যিনি নির্দেশ পান। তিনি রাসুল হিসেবে আসবেন না। তিনি খৃস্টানদের সামনে সাক্ষ্য দিতে আসবেন, আমি নিজেকে ঈশ্বর দাবী করিনি। তিনি নতুন নির্দেশ পাবেন না। আগে তিনি নির্দেশ পেয়েছিলেন ঈঞ্জিলে। সেটা ২ হাজার বছর আগের কথা যেটা বিকৃত হয়ে গেছে। তারপর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আসলেন এবং কুরআন নাজিল হল। তাই যীসু খৃস্ট অর্থাৎ হযরত ইসা (আঃ) কেয়ামতের পূর্বে আবার পৃথিবীতে আসবেন আমাদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হয়ে। তিনি কুরআন ও হাদীসের আইন মেনে চলবেন।
তাহলে রাসুল হিসেবে কিংবা ঈশ্বরের দূত হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী হলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
এই পোষ্টটি ডা: জাকির নায়েকের নিচের দেয়া ভিডিও থেকে অনুপ্রানিত।

0 মন্তব্যসমূহ